রুয়েট প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ইন্টিগ্রেটেড হল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালু করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবাসিক হলগুলোর ফি আদায়, বকেয়া ব্যবস্থাপনা, ডাইনিং কুপন, সম্পদের হিসাব এবং কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আসবে।
সোমবার দুপুরে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এস আব্দুর রাজ্জাক ওয়েবভিত্তিক এ ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
রুয়েট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর সার্বিক কার্যক্রমকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত ম্যানুয়াল ও কাগজনির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে পুরো কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বর্তমানে রুয়েটের বিভিন্ন আবাসিক হলে ফি আদায়, বকেয়া ছাড়পত্র, ডাইনিং কুপন বিতরণ, সম্পদের হিসাব এবং কর্মচারীদের বেতন প্রদানের মতো কার্যক্রম মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সশরীরে কাউন্টারে উপস্থিত থাকতে হয়। পাশাপাশি হল পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লেনদেনের কারণে নানা ধরনের ঝুঁকিও থাকে।
নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট পোর্টাল ব্যবহার করে ঘরে বসেই হলের ফি, সিট ভাড়া, ডাইনিং চার্জ ও রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে পারবেন। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থ পরিশোধ করা যাবে। পেমেন্টের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মানি রিসিটও পাওয়া যাবে।
সফটওয়্যারটিতে কোর্স রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে হলের বকেয়া পরিশোধের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর হলের বকেয়া থাকলে তিনি কোর্স রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়ার তথ্য যাচাই করে পরিশোধের জন্য সরাসরি লিংক দেখাবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে প্রভোস্টরা শর্তসাপেক্ষে সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।
ডাইনিং ব্যবস্থাপনাতেও আসছে বড় পরিবর্তন। কাগুজে কুপনের পরিবর্তে চালু হবে নিরাপদ কিউআর কোড বা ডাইনামিক ডিজিটাল টোকেন। ডাইনিংয়ে ডিভাইস বা অ্যাপের মাধ্যমে টোকেন স্ক্যান করে যাচাই করা হবে। এতে একই টোকেন পুনরায় ব্যবহার, নকল বা অন্যের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি খাবারের অপচয়ও কমবে।
এ ছাড়া সফটওয়্যারটিতে প্রভোস্টদের জন্য থাকবে বিশেষ ড্যাশবোর্ড ও ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা সুবিধা। হলের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, জেনারেটর, পানির পাম্পসহ সব সম্পদের লাইভ ডিজিটাল ইনভেন্টরি সংরক্ষণ করা হবে। প্রভোস্টরা যেকোনো ডিভাইস থেকে সম্পদের বর্তমান অবস্থা দেখতে এবং রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সেবা আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
হলের স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীদের হাজিরা, ছুটি ও বেতন ব্যবস্থাপনাও স্বয়ংক্রিয় করা হবে। বেতন বিল ও পে-স্লিপ তৈরি থেকে শুরু করে ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি বেতন প্রদানের সুবিধা থাকবে এ ব্যবস্থায়।
এ ছাড়া মেধা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রোফাইল, মোবাইল নোটিফিকেশন, ডিজিটাল নোটিশ বোর্ড এবং অভিযোগ ট্র্যাকিংয়ের সুবিধাও থাকবে সফটওয়্যারটিতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রুয়েটের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে, নিরীক্ষা কার্যক্রম সহজ হবে এবং নগদ অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এতে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট ও ভোগান্তিরও অবসান ঘটবে।







