রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে বই-খাতা ফেলে রাজপথে নেমেছে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানরা। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ৫ শতাংশ প্রফিট শেয়ারের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বুধবার রাজশাহীর কাদিরগঞ্জ নাজমুল হক স্কুলের সামনে তারা অবস্থান নেয়।
দাবি আদায়ে সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ ১৯ মাসের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে অভিভাবকদের পরিবর্তে তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের দৃশ্য দেখা যায়।
শিশুদের হাতে থাকা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে ছিল, ‘আমাদের বাবাদের পাওনা ফিরিয়ে দাও’। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের বাবারা শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ৫ শতাংশ প্রফিট শেয়ার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এতে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে সংকটে পড়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতার কারণে পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের হয়রানি ও মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সন্তানদের একজনের ভাষ্য, ‘আমাদের বাবারা সারা জীবন পরিশ্রম করেছেন। তাদের ন্যায্য পাওনা কেন এত বছর ধরে আটকে থাকবে? আমরা আমাদের পরিবারের অধিকার ফিরে পেতে চাই।’
আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবি শুধু অর্থ পাওয়ার বিষয় নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।
কর্মসূচি থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, শ্রম আইন অনুযায়ী সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৬ বছরের বকেয়া ৫ শতাংশ প্রফিট শেয়ার অবিলম্বে পরিশোধ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও আইনি জটিলতার স্থায়ী সমাধানে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ।
আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, ন্যায্য পাওনা কোনো দান বা করুণা নয়, এটি শ্রমিকের অধিকার।
সন্তানদের এ প্রতিবাদকে ঘিরে কর্মসূচিস্থলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বই-খাতা হাতে থাকার বয়সে সন্তানদের রাজপথে দাঁড়িয়ে বাবাদের পাওনা ফেরতের দাবি জানানোর বিষয়টি উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।







