নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) রাজশাহী গবেষণাগারে বার্ষিক কর্মশালা ও অংশীজন মতবিনিময় সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) আয়োজিত এ সভায় শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিএসআইআরের সদস্য (অর্থ) ও সরকারের যুগ্মসচিব মো. তৌফিক-ই-লাহী-চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী গবেষণাগারের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. তৌফিক-ই-লাহী-চৌধুরী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিসিএসআইআর ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথি ড. সামিনা আহমেদ বলেন, বিসিএসআইআরের সঙ্গে অংশীজনদের সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় বিসিএসআইআর সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার গড়ে তোলা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আহসান হাবীব। তিনি বিসিএসআইআরের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। পরে রাজশাহী গবেষণাগারের কার্যক্রম, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের অগ্রগতি, বিজ্ঞানীদের অর্জন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোছা. শারমিনা ইয়াসমিন।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্পোদ্যোক্তা, ভোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন গবেষণাগারের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া।
বিসিএসআইআরের দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ সেবা, বিশেষ করে ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরীক্ষা, কীটনাশক নির্ণয় ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তকরণ সেবা শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রশংসা অর্জন করে। এ ছাড়া গবেষণাগারে উদ্ভাবিত বিভিন্ন পণ্যও উপস্থিত অতিথিদের কাছে সমাদৃত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দেশের স্বার্থে শিল্পোদ্যোক্তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।







