নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের সরকারি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি কম্পিউটার সেবাকেন্দ্রের মালিক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় ভুক্তভোগীদের পক্ষে আনসার আলী নামে এক ব্যক্তি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযুক্তরা হলেন তানোর উপজেলা ডাকবাংলো মাঠসংলগ্ন ‘মুক্তা কম্পিউটার’-এর মালিক মো. আসাদুজ্জামান মুক্তা (৪০) এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী পলাশ কুমার।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে আসা অসহায় মানুষের প্রকৃত মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে সার্ভারে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত মোবাইল নম্বর যুক্ত করে দিতেন অভিযুক্তরা। পরে ভাতা অনুমোদন হলে প্রথম কিস্তিতে জমা হওয়া এককালীন টাকা, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি, নিয়ন্ত্রিত ওই নম্বরগুলোর মাধ্যমে গোপনে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘদিন ভাতার টাকা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে ধরা পড়ার ভয়ে অভিযুক্তরা পোর্টালে মোবাইল নম্বর সংশোধন করে দিলেও প্রথম কিস্তির হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দেননি বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই কৌশলে অসংখ্য বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসহায় ভাতাভোগীদের আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আসাদুজ্জামান মুক্তা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভুলবশত এটি হয়েছে। আমি টাকা ফেরত দিতে চেয়েছি, কিন্তু তারা আসেনি। আমি আপোষ-মীমাংসায় বিশ্বাসী। তারা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।







